Acne In Teenagers
টিনএজারদের ব্রণ সমস্যা
টিনএজারদের ব্রণ সমস্যা
ব্রণ বয়োসন্ধির একটি সাধারণ রোগ । সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (২৫ বছর বয়সের মধ্যে) মুখের ব্রণ মিশে যায় তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর থাকতে পারে। শতকরা ৯০ ভাগ টিনএজার এ রোগে আক্রান্ত্ হয়। ব্রণ মুখমন্ডলকে সুশ্রী থেকে বিশ্রী করে ফেলে। এতে দাগ বা গর্ত যাতে না হয় তাই সৌন্দর্য সচেতন অনেকেই এই রোগের চিকিৎসা করে থাকেন ।
ব্রণ থেকে মুক্ত বা ব্রণে আক্রান্ত কারী যেসব বিষয় অনুসরণ করতে পারেন তা হলো------- ১/ব্রণ খুটা বা চিমড়ানো যাবে না, ২/ ছাতা বা ক্যাপ ছাড়া রোদে বের হওয়া যাবে না,৩/ মুখে যে কোনো ধরনের কসমেটিক ব্যবহার করা যাবে না, ৪/ টেনশনমুক্ত থাকতে হবে ৫/ খুব বেশি সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যাবে না, ৬/ চুলে বেশি তেল ব্যবহার করা যাবে না, ৭/ চুলে হেয়ারজেল বেশি ব্যবহার করা যাবে না ।
উপরোক্ত কারণগুলো ব্রণের জন্য দায়ী। তাই এসব এড়িয়ে চলতে হবে।
ব্রণের আধুনিক চিকিৎসা
বর্তমানে কেমিক্যাল পিলিং মাইক্রোড্রামএব্রাসন এবং কমেডো এক্সট্রাকসন ব্রণের অত্যাধুনিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ব্রণ আক্রান্ত্ রোগীদের ব্রণ সম্পর্কে সাময়িক ধারণা থাকা আবশ্যক।
ব্রণ সাধারণত লোমকূপ ও তার সঙ্গে অবস্থিত তেলগ্রন্থির মুখের প্রদাহের জন্য হয়।
ব্রণের প্রাথমিক ক্ষত হচ্ছে কমেডন, যা দুই ধরনের।
এদের মধ্যে অগভীর কমেডনগুলো বাইরে থেকে কালো দেখা যায়, তাকে ব্লাক হেড বলে।
গভীর কমেডনগুলো বাইরে থেকে সাদা দেখা যায়, তাই তাকে হোয়াইটহেড বলে।
এছাড়া ছোট দানা, বড় দানা, পুঁজসহ দানা থাকতে পারে।
ব্রণ সাধারণত মুখ, গলা, বুক, পিঠ ও বাহুর ওপরের অংশে হয় ।
ব্রণ কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনও নির্ণিত হয়নি ।
তবে ১/লোমকূপ ও তার সঙ্গে অবস্থিত তেলগ্রন্থির মুখের ত্রুটি,
২/বয়োসন্ধিকালে এন্ড্রোজেন নামক হরমোনের আধিক্য
৩/ পি একনি নামক এক ধরনের জীবাণুর আক্রমণকে ব্রণের কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় ।
এছাড়া বংশগত কারণে ব্রণ হয় ।
সাধারণ চিন্তা-ভাবনায় ব্রণ হয় না । তবে অত্যধিক মানসিক চাপে, শরীরের ভেতর থেকে এন্ড্রোজেন নামক এক ধরনের হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে ব্রণ সৃষ্টি করে ।
অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্য বয়সে ব্রণ হয় অত্যধিক কসমেটিক ব্যবহারে । এছাড়া মধ্যবয়সী মহিলাদের ব্রণ হয় অত্যধিক কসমেটিক ব্যবহার, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও মাসিকের অনিয়মে ।
বয়োসন্ধির শুরুতে যে ব্রণ উঠে তা ন্যাচারাল । বর্তমানে অনেকভাবেই ব্রণের চিকিৎসা হচ্ছে । কোনো একটি নির্দিষ্ট ওষুধ সব রোগীর জন্য ভালো নয় । প্রত্যেক রোগীর জন্য তার স্কিন টাইপ, ব্রণের ধরন, ব্রণের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়া উত্তম । আক্রান্ত স্থানে লাগানো ভিটামিন- এ জাতীয় ক্রিম সাধারণত সহনশীল ও ভালো । সাধারণ ওষুধ ব্যবহারের এক মাসের মধ্যে এর ফল দেখতে পাওয়া যাবে ।
ব্রণ আক্রান্ত রোগীদের সাবধানতা
ব্রণ খুটলে নখের জীবাণু দ্বারা ক্ষত স্থানে ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন হয়ে স্থায়ী দাগ ও গর্ত হতে পারে । তাই নখ দিয়ে খুটা উচিত নয় । ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের চেয়ে বেশিবার ওষুধ ব্যবহার ব্রণ দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে না; বরং বেশি করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে চিকিৎসার পর বেশি ব্রণ ওঠার কথা নয় । তারপরও যদি নতুন করে ব্রণ ওঠে তাহলে আবার নতুন করে চিকিৎসা নিতে হবে।
ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল
সহকারী অধ্যাপক, চর্ম-যৌন-এলার্জি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
কামাল স্কিন সেন্টার, ০১৭১১৪৪০৫৫৮
No comments:
Post a Comment